৩৮ তম বিসিএসের প্রস্তুতি


৩৮ তম বিসিএসের প্রস্তুতি


বাংলা নিউস রিপোর্ট ২৪:  বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ২৯ ডিসেম্বর। হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে রইল কিছু পরামর্শ।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবণ্টন বিসিএসের প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারিতে ৩৫তম বিসিএস থেকে নেওয়া হচ্ছে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা। সময় ২ ঘণ্টা। হিসাব করে দেখলে বোঝা যায়, প্রত্যেকটি প্রশ্নের জন্য গড় ৩৬ সেকেন্ড করে সময় পাওয়া যায়।

বাংলায় ৩৫ নম্বর, ইংরেজিতে ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়ে ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ২০, ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ১০, সাধারণ বিজ্ঞানে ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ১৫, গাণিতিক যুক্তিতে ১৫, মানসিক দক্ষতায় ১৫ নম্বর ও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনে থাকবে ১০ নম্বর। খেয়াল রাখা দরকার, ভুল উত্তরের জন্য প্রতি প্রশ্নে ০.০৫ নম্বর করে কাটা যাবে। সেই কারণেই একেবারে নিশ্চিত না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দেওয়াই ভালো।

গুরুত্ব না দিয়ে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা


মাথায় রাখুন কোনো একটি বিশেষ বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সব বিষয়কে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। না হলে কোনো একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রবল মনোযোগ দরকার। অন্য কোনো পরীক্ষার বিষয়ে এই সময় মনোযোগ না দেওয়াই ভালো।সিলেবাস অনুযায়ী পুরোটা পড়া উচিত। সাজেশন ভিত্তিক পড়া নয়। সময় থাকতে গোটা সিলেবাসটি ভালো করে জেনে নিতে হবে। তারপর মূল অংশগুলো ভালো করে পড়তে হবে। প্রথমেই বাদ দিয়ে পড়ার অভ্যাস একেবারেই কাজের কথা নয়।

বিসিএসের জন্য স্ট্র্যাটেজিক পড়াশোনা বিপুল মাত্রায় প্রয়োজন। নিয়মমাফিক পড়াশোনা না করলে অল্প সময়ে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া মুশকিল। পরীক্ষা সম্পর্কে পরীক্ষার্থীর স্বচ্ছ ধারণা থাকা একান্ত দরকারি।নিয়মমাফিক পড়ুন, হিসাব করে পড়ুন।

বিগত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন


যেভাবে আসবে সাফল্যের সিঁড়ি # বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করা মূলত নির্ভর করে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও বাংলা- এ চারটি বিষয়ের ওপর। এ চারটি বিষয় জোর দিয়ে পড়–ন। যে প্রশ্নগুলো কঠিন মনে হবে, সেগুলো একাধিকবার পড়–ন। যদিও নতুন নিয়ম, তবু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য বিগত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন। এতে করে আপনার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা জন্মাবে।

সার্বিকভাবে বিগত বছরগুলো প্রশ্নের ধারা বিবর্তন দেখতে চাইলে একটি বিসিএস প্রশ্নব্যাংক কিনতে পারেন। তবে এটা খুব জরুরি নয়।

এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর নজর দিতে হবে। বাংলা ব্যাকরণ অংশে ভুল সংশোধন বা শুদ্ধিকরণ, সমার্থক-বিপরীতার্থক শব্দ, সন্ধি, প্রত্যয়, সমাস, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ ও বাক্য সংকোচন থেকে প্রশ্ন আসে। বাংলা সাহিত্যের প্রধান লেখকদের সব বইয়ের নাম ও বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এ থেকে প্রশ্ন আসে।

মাহবুবুল আলমের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস


প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে আগের বিসিএস পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন, জব সলিউশন, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ডের ব্যাকরণ বই, হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা, ড. হুমায়ুন আজাদের লাল নীল দীপাবলি, মাহবুবুল আলমের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা বিষয় বাংলা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। এ ছাড়া যে কোনো পাবলিকেশনের বাংলা প্রস্তুতি গাইড।

ইংরেজি গ্রামার অংশে ভালো করতে হলে এতে ভালো দখল থাকতে হবে। লিটারেচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়কাল, খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের উক্তি, কবিতার লাইন, জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা পড়তে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের গ্রামার বই সহায়ক হতে পারে। ভোকাবুলারির জন্য ভালো কোনো বইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। বিগত বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলো দেখতে পারেন- বিগত সালের প্রশ্ন থেকে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জ্ঞানের সিলেবাস অনেক বড়। যেসব টপিক থেকে প্রায় বছরই প্রশ্ন আসে, সেগুলো রাখতে হবে পড়ার তালিকায়। রোজকার খবর রাখুন। সংবাদপত্র ভীষণ মন দিয়ে পড়–ন। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য পত্রিকা পড়া জরুরি।

সমসাময়িক ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে ধারণা


এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই সহায়ক হবে। পত্রিকার উপসম্পাদকীয় ও কলামগুলো পড়লে অনেক তথ্য জানা যায়, সমসাময়িক ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। নিয়মিত চোখ রাখুন ইন্টারনেটে।

গণিতে যারা ভালো তাদের জন্য প্রিলিমিনারি পাস করা কঠিন কিছু নয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাধারণত এমন সব অঙ্কই থাকে, যা শর্টকাটে সমাধান করা যায়। ভালো করার মূলমন্ত্র বারবার অনুশীলন। পুরনো সিলেবাসের বইয়ের অঙ্ক সমাধান করলেও কাজে দেবে।

অন্তত বিগত ১২ বছরের বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নের সমাধান করতে হবে। এতে প্রশ্ন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা হবে। বিভিন্ন গাইড বইয়ের মডেল টেস্টগুলো দিতে হবে। গাণিতিক যুক্তির জন্য অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির গণিত বইগুলো চর্চা করা দরকার। নিয়মিত গণিত চর্চার বিকল্প নেই।

সব বিষয় গভীরভাবে পড়ুন। কেবল সাজেশনের ওপর ভরসা করবেন না। কেননা শেষ কয়েক বছরের ইতিহাস বলছে, কেবল সাজেশনভিত্তিক পড়াশোনা সমস্যায় ফেলে দিতে পারে পরীক্ষার্থীদের।

ভূগোল, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, মানসিক দক্ষতা 


একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে, নতুন সংযোজিত বিষয়, যেমন ভূগোল, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, মানসিক দক্ষতা সম্পর্কে কিন্তু আগেও প্রশ্ন আসত। বর্তমানে শুধু বিষয়বস্তুগুলো আলাদা করে নম্বর বণ্টন করা হয়েছে। অতএব প্রস্তুতি একইভাবে নিলেই চলবে। পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য নবম-দশম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বইটি বেশ কাজে দেবে।

সাধারণ বিজ্ঞানে ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন থাকে। গুরুত্ব বুঝে বইয়ের প্রায়োগিক বিষয়গুলো দাগিয়ে পড়লে কাজে দেবে। বোর্ডের সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই পড়তে হবে। এ বইগুলো ভালোমতো পড়লে প্রিলিমিনারির জন্য বাড়তি তেমন কিছু না পড়লেও চলে। তবে বাজারে অনেক বই পাওয়া যায়। বাড়তি প্রস্তুতির জন্য এসব বই দেখতে পারেন।

সর্বশেষ বিসিএস পরীক্ষার জন্য স্ট্র্যাটেজিক পড়াশোনা বেশি মাত্রায় প্রয়োজন। কেননা বিপুল সিলেবাসে নিয়মমাফিক পড়াশোনা না করলে অল্প সময়ে একে সামলানো মুশকিল। তাই ব্যর্থ হলে দমে যাওয়া উচিত নয়। একবার পরীক্ষা দিয়ে থেমে না গিয়ে, বার কয়েক পরীক্ষা দেওয়াই যেতে পারে। সাধারণ মানের ছাত্রদের কম করে তিন বছর নিয়মিত পড়াশোনা করা প্রয়োজন। কেননা সঠিক পরিমাণে পড়াশোনা না করলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।
৩৮ তম বিসিএসের প্রস্তুতি ৩৮ তম বিসিএসের প্রস্তুতি Reviewed by Shuvo Ahamed on April 08, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.